রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের উদ্যোগগুলোর প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান।

পোস্টে তাকাইচি লেখেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমান সরকারের জাতি গঠন ও জাতীয় উন্নয়নের প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ় সমর্থন দেবে। তাঁর এ বক্তব্যে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে টোকিওর আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাকাইচি। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই নেতা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান তাকাইচি।

এই উদ্যোগকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামে নতুন একটি কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রসঙ্গে তাকাইচি বলেন, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশটি জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের অবস্থান দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তাকাইচি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন।

এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন এবং স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ধারাবাহিক সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে। শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত দুই নেতার যৌথ বিবৃতিকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাকাইচি আরও বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠক ও পরবর্তী বক্তব্যে বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন