আসন্ন রমজানের আগে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা। তবে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ব্যবসায়ীদের দাবির বিপরীতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
এদিকে খেজুর আমদানিকারকদের দাবি, বর্তমানে এ পণ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পরিবহন জটিলতা ও বিকল্প পথে পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা অব্যাহত থাকলে সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আমদানিকারকেরা খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্য প্রকৃত আমদানি মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় শুল্ক ও সামগ্রিক ব্যয় বাড়ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য খেজুরের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভিন্ন মানের খেজুর আমদানি হওয়ায় সব ধরনের খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করা এবং আমদানিকারকদের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

