রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলায় ১৭ বছর পর রায়, দুজনের যাবজ্জীবন

এম এ মামুন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ও একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসমাইল হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, বাদী ও অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে ইসমাইলের কল পেয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেতে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

তদন্তে ইসমাইল হোসেনের পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে আসে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌশুলী (পিপি) অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন