পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক পর্যায়ে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই পর্যায়ে পারমাণবিক চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে চুল্লির কার্যক্রম চালু করে নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীলভাবে শক্তি উৎপাদনের দিকে এগোনো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটিও কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।
এর পরবর্তী ধাপ ‘বি-২’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন তৈরির প্রক্রিয়া। এই ধাপে চুল্লির পারমাণবিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু করা হয় এবং ধীরে ধীরে শক্তি উৎপাদনের মাত্রা বাড়ানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রথম ইউনিটে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পর জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া হবে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ—দুটি অগ্রগতিই রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

