কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে চাইলেও দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফিরবে না। দলটির মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট উপপরিদর্শক (এসআই)-২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। তাঁর ভাষায়, দলটির ডিএনএর মধ্যে গণতন্ত্রের কোনো বীজ ছিল না; বরং তারা স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দলটির নেতারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ গণহত্যা ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এসব ঘটনার জন্য দলটি এখনো ক্ষমা চায়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে দলটি আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে তিনি মনে করেন।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কে কখন দেশে ফিরতে চান, তা নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। কেউ দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনের প্রয়োগে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার সবার ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

