ফ্রান্সে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হ্যালোইন উৎসবের দিন বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এ ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
বৃহস্পতিবার তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবরের মতো এবারও দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম টিএফ১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ দিনটিকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে বলেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরও বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
নুনেজ জানান, রাত ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১টা) বিভিন্ন স্থানে জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব আহ্বানের মধ্যে কয়েকটিকে তিনি অত্যন্ত সহিংস বলে উল্লেখ করেন। কোথাও কোথাও বিপ্লব কিংবা বিদ্রোহের ডাকও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কেউ সমবেত হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহরের কেন্দ্রস্থলে আংশিকভাবে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে প্রবেশের সময় তল্লাশি জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নুনেজ বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অনুমোদিত বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলোতে নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, ১৭ ও ২৪ অক্টোবরের পর আগামী শনিবার ফ্রান্সজুড়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হতে যাচ্ছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

