রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ন্যায়বিচারের চেয়ে শক্তির প্রভাব বাড়ছে বিশ্বে: প্রধান বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক

বর্তমান বিশ্বে সার্বভৌমত্বের ধারণা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমেই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবতা ও মানবাধিকারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আইন বিভাগের আয়োজনে ‘সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো সমস্যা আর নির্দিষ্ট একটি ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাই সার্বভৌমত্বের অর্থ কেবল স্বাধীনভাবে চলার মধ্যে সীমিত নয়; বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অংশ নেওয়াও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বে শক্তিশালী পক্ষের আধিপত্য বাড়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি দিন দিন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর দিকে তাকালেই এর নানা উদাহরণ পাওয়া যায়। শালীনতার খাতিরে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবতা ও মানবাধিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়া উচিত।

মানুষের জীবনের মূল্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন সম্পদ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। এ বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থানে অটল উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বে এমন কোনো দিন খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেদিন কোনো দেশ বা শহরে একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি।

অধিকারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগের সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার কিংবা শ্রমিকদের অধিকার—এভাবে অধিকারকে নানা ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। অথচ মানবাধিকার মূলত মানবাধিকারই। অধিকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মানুষ অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটির গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের ধারণা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশ্বায়ন, সশস্ত্র সংঘাত, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বৈষম্য এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শেষে অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দীকার সভাপতিত্বে প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ল স্কুলের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক দাতিন মেরি জর্জ।

উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মু. নসরুল্লাহ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন