রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় কয়েক দশক পর গণকবর খোঁড়ার মহড়া মার্কিন সেনাবাহিনীর

নিউজ ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এবং এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার প্রাণহানির আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে রণক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে মরদেহ সমাহিত করার বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম মার্কিন সেনারা এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নিলেন।

কোরীয় যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নীতি ছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁর মরদেহ দ্রুত বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে আনা। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধেও এ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য বড় সংঘাতে আকাশপথে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার অস্থায়ী সমাধিস্থল ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন।

সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম প্রকৌশলী ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপলেইনরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ভারী যন্ত্রপাতি ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে অস্থায়ী সমাধিস্থল তৈরি করা যায়, তা অনুশীলন করেন সেনাসদস্যরা।

মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল নিহত সেনাদের মরদেহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা, যাতে পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং সামরিক মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এ জন্য মরদেহের হিসাব সংরক্ষণ, অস্থায়ীভাবে সমাহিত করা এবং পরবর্তী সময়ে উদ্ধার ও শনাক্তকরণের পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হয়।

মহড়ায় অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট ডেলবার্ট রুয়েড জানান, সংঘাতের সময় নিহত সহযোদ্ধাদের মরদেহ সর্বোচ্চ সম্মান ও নিয়ম মেনে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। তাঁর মতে, বড় ধরনের যুদ্ধ হঠাৎ শুরু হলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, সে জন্য আগে থেকেই পরীক্ষিত পদ্ধতি থাকা জরুরি। এতে প্রতিটি মরদেহের সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হবে।

এদিকে, সেনাবাহিনীর চ্যাপলেইনরাও দীর্ঘ সময় পর রণক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফনের ধর্মীয় রীতি ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দ্রুত মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে সমাহিত করার ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারে। সম্ভাব্য এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মার্কিন সেনাবাহিনীর এ প্রশিক্ষণ।

তবে এ মহড়াকে ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আসন্ন যুদ্ধের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সম্ভাব্য বড় সামরিক সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানির পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ।

 

সূত্র: এনডিটিভি

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন