সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিরোধী দল গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদের কিছু বিষয় বাস্তবায়নে সাধারণ আইন প্রয়োজন, আবার কিছু ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন জড়িত। তাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে তো একটা আইনি রূপ লাগবে। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায়। তারা যেটা বলছে, তা গায়ের জোরে বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে কোনো আইনের দরকার নেই, সংবিধানের দরকার নেই।’
জুলাই সনদে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব আপত্তি নিয়ে আলোচনা করে আগে সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন। কিন্তু বিরোধী দল কোনো আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শামসুল হুদার স্মৃতিচারণ
স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত ও বিনয়ী রাজনীতিক। জীবনে কারও সঙ্গে ঝগড়া বা সংঘর্ষে জড়াননি।
রিজভী বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার ও একে অপরের বিরুদ্ধে কলঙ্কলেপনের প্রবণতা বাড়ছে। এমন সময়ে শামসুল হুদার মতো অভিভাবকতুল্য, নীতি ও আদর্শে অটল নেতার অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন প্রমুখ।
জামায়াতের লংমার্চের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের লংমার্চ করার যৌক্তিকতা কী, তা জনগণ জানে না, আমরাও বুঝতে পারছি না। তেল, গ্যাসের সংকট কি বিএনপি সরকারের তৈরি করেছে? সরকার কি গ্যাস বাংলাদেশ থেকে পাচার করে দিয়েছে?’
জ্বালানি সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধকে দায়ী করে রিজভী বলেন, সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আমদানি শুরু করেছে। এতে সারা দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
রিজভী আরও বলেন, সরকার ইতিবাচক রাজনীতি শুরু করেছে। এতে বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা বা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই বিরোধী দল লংমার্চ কর্মসূচি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, কর্মসূচিটির যৌক্তিকতা নেই এবং এটি জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

