রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সরানোর সিদ্ধান্তে ফুঁসছেন লামাবাসী

আমিনুল ইসলাম , বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার সব ধরনের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থানীয় কার্যালয় থেকে সরিয়ে জেলা সদরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লামার সাধারণ বাসিন্দারা। জনদুর্ভোগ এড়াতে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পূর্বের মতো স্থানীয় উপজেলা কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা ১৯০০-এর ২০ বিধি অনুযায়ী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই আদেশ জারি করেন। আদেশে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারির পূর্ববর্তী নির্দেশ বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এতদিন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,চলতি ২০২৬ সালে এই উপজেলায় ইতোমধ্যে বায়না, সাব-কবলা, দানপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও চুক্তিনামাসহ মোট ১,২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

​এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হবে বলে জানান স্থানীয়রা। লামার ৬ নং রূপসীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “লামা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ছোটখাটো রেজিস্ট্রেশন কাজের জন্য অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে জেলা সদরে যেতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হবেন।”

​একই সুরে অসন্তোষ প্রকাশ করে ৫ নং সরই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রশাসনের উচিত বিষয়টি মানবিক ও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করা। জনদুর্ভোগ কমাতে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম দ্রুত পূর্বের নিয়মে লামা ইউএনও কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

​বিষয়টি নিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার জানান, “রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারাধীন বিষয়। সরকারি দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা কাজ করতে বাধ্য। তবে লামা থেকে বান্দরবানের দূরত্ব বেশি হওয়ায় জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বোধগম্য।”

​অন্যদিকে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস, এম, হাসান জানান, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারে। তিনি যেকোনো ইউএনও-কে এই দায়িত্ব দিতে পারেন বা ফিরিয়ে নিতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

​এ বিষয়ে জানতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন