সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

স্বৈরশাসকদের সঙ্গে আপসের রাজনীতি করেছে জামায়াত: রিজভী

নিউজ ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস আত্মসমর্পণ এবং স্বৈরাচারী শক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।’

অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের হঠাৎ রাস্তায় নামিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে তারেক রহমান বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন। দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভীর অভিযোগ, এসব উদ্যোগ উপেক্ষা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও বাসে আগুন, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আটক ব্যক্তিদের একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ওই ব্যক্তি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনের মধ্যে থেকে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগের পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, অন্যদিকে নতুন একটি শক্তি রয়েছে। নতুন শক্তিটি পরাজিত শক্তির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

তারেক রহমানের সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা একটি বড় পদক্ষেপ।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুসারীরা দেশের মাটি, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে। বিদেশে তাদের কোনো প্রভু নেই; এ দেশেই তারা থাকতে চান।

রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে সাত দফা দাবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব দাবিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। তবে সংস্কার বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মিয়া, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র এজিএস ইলতুৎমিশ সওদাগর এনি এবং অফিস সেক্রেটারি মো. আবজাল হোসাইন মৃধাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন