সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঢাকার সহযোগিতা চায় নয়াদিল্লি

নিউজ ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য—‘সেভেন সিস্টার্সে’ বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশের পার্বতীপুরের মধ্য দিয়ে ৭৬৫ কেভি উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি চেয়েছে নয়াদিল্লি। তবে সমান সুযোগ এবং আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে একক কোনো সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি দিতে রাজি নয় ঢাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ৯ ও ১০ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে বিদ্যুৎ সচিবদের সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সম্মেলনে ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের পার্বতীপুর দিয়ে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার সঞ্চালন করিডর ব্যবহারের অনুমতি চায়। প্রস্তাবিত ৭৬৫ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহনের পরিকল্পনার কথা জানায় দেশটি। একই সঙ্গে ভারত জানায়, বাংলাদেশ চাইলে এই লাইন ব্যবহার করে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের এক নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের করিডরের অনুমতি দেওয়া হবে না।

ওই নীতিনির্ধারকের ভাষ্য, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি গ্রিড সংযোগ থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভারত-ভুটান-বাংলাদেশ কিংবা নেপাল-ভারত-বাংলাদেশ—এ ধরনের আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। বাংলাদেশের আগ্রহ কোনো একক দ্বিপক্ষীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় নয়, বরং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করে এমন আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবস্থায়।

আগেও করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক আগে ১৯ ও ২০ জুলাই দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে ভারতের করিডর প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট নথিতে ২০২৫ সালে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।

নতুন করে আলোচনায় ভারতের প্রস্তাব

গত ৬ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকেও তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

পরে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারত যেভাবে গ্রিড লাইন নিতে চাইছে, সরকার সেভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হলো—এ ধরনের উদ্যোগে দুই দেশের পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারদেরও সমান সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সংযোগসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তোলার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন