মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার আছে পুলিশের

নিউজ ডেস্ক

পুলিশের আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার ক্ষমতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এ ধরনের বলপ্রয়োগ অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের বলপ্রয়োগের আইনি এখতিয়ার সম্পর্কে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অধিকার থাকতে পারে। তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতির ভিত্তিতে হতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

আগের মতো আন্দোলন দমন করতে চায় না সরকার

আন্দোলন মোকাবিলায় আগের সরকারের পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় না বর্তমান সরকার—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর শেখ হাসিনার আমলের পুলিশের মতো হবে না বলে তিনি আশা করেন। এ বক্তব্য তিনি সরকারে থাকা ব্যক্তি হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবে দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের কিছু ঘটনা দেখা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও পরিস্থিতির তুলনায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকার আগের মতো কঠোরভাবে আন্দোলন দমনের পথে যেতে চায় না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হোক বা অন্য কেউ—দিন শেষে তারা সবাই এ রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারা কীভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে। তবে সরকার এমনভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর ভয়ভীতি ও ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম হয়।

শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় মজুরি বোর্ড গঠন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। তাদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে আলোচনা করে তাদের কাজে ফেরানো সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শ্রমিকদের দাবির কারণে যখন তারা মাঠে নেমেছেন, তখন সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্য কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। শ্রমিকরা আন্দোলনে না নামলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা অন্যদের জন্য সহজ হতো না।

 

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন