বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে গুগলের এআই টুল

নিউজ ডেস্ক

শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে নিজেদের এআই সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। স্কুল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়ে পুনরায় চালু না করা পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে না।

মঙ্গলবার এক ব্লগ পোস্টে গুগল এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নতুন ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে জেমিনি, জেমিনি নোটবুক, গুগল ক্লাসরুমে জেমিনি এবং এআই-সম্পর্কিত সার্চ সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় থাকবে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী এসব টুল ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে।

গুগল জানিয়েছে, নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে। তবে বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

তবে নতুন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্কুল কর্তৃপক্ষ এআই সুবিধা বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীরা এআই-সংশ্লিষ্ট সুবিধা ছাড়া গুগল সার্চও ব্যবহার করতে পারবে না। গুগলের শিক্ষা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস জানিয়েছেন, সার্চ ও এআই এখন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সার্চ ইঞ্জিনের ভেতরেই বিভিন্ন এআই সুবিধা সংযুক্ত রয়েছে। ফলে কোনো স্কুল এআই নিষিদ্ধ করলে শিক্ষার্থীদের জন্য সার্চ সেবাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে গুগলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারে প্রভাব বিস্তারের জন্য নিজেদের একচেটিয়া অবস্থান কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে গুগল।

তিনি বলেন, শিশুদের কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা উচিত নয়।

এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও জোশ হাওলি গুগলসহ সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে বিশ্বজুড়ে ১৫ কোটির বেশি শিক্ষার্থী গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করার বিষয়টি উল্লেখ করে স্কুলের ডিভাইসে এআই সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

গত আগস্টে সব বয়সী শিক্ষার্থীর জন্য গুগল ক্লাসরুমে জেমিনি চ্যাটবট ব্যবহারের সুযোগ চালু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় সহায়তা, স্টাডি গাইড তৈরি, অনুশীলনী কুইজ এবং ফ্ল্যাশকার্ড ব্যবহারের সুযোগ পেত। শিক্ষার্থীদের শ্রেণি ও অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী প্রাথমিক নির্দেশনাও দেওয়া হতো। যেসব স্কুল আগে থেকেই জেমিনি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে সুবিধাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় ছিল।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বড় শহর। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের ডিভাইসে এআই টুল ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গুগলের নতুন ঘোষণা এবং এর ফলে স্কুল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, যথাযথ নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিশ্চিত করে এআই ব্যবহার করা হলে শিক্ষাদান ও শেখার প্রক্রিয়া আরও উন্নত হতে পারে। তবে প্রযুক্তি যেন শিক্ষকদের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা সম্পর্কে গুগলের কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ক্রোমবুক থেকে জেমিনি চ্যাটবট ও এআই মোড ইতোমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুগল সার্চের ফলাফলে প্রদর্শিত এআই ওভারভিউ সুবিধাও বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুগল বলেছে, নতুন ব্যবস্থার ফলে স্কুলগুলো এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় শর্টকাট হিসেবে এআই ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে স্কুলগুলোর উদ্বেগ রয়েছে বলেও স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন