শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নির্বাচনী জয়ের পর ইরান যুদ্ধ বন্ধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতেও বিল আনার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার পর বুধবার এ পরিকল্পনার কথা জানান ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য টেড লিউ। তিনি বলেন, নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর ছাড় পুনর্বহাল, ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেড লিউ বলেন, ‘আমরা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন (এসিএ) সংশ্লিষ্ট কর ছাড় পুনর্বহালের জন্য বিল পাস করব। আমেরিকানদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করা ট্রাম্পের অযৌক্তিক শুল্ক বন্ধে বিল আনব। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ বন্ধেও বিল পাস করব।’

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় দলটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর নজরদারি, বিভিন্ন বিল আটকে দেওয়া এবং কংগ্রেসের কমিটিগুলোর মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার বাড়তি সুযোগ দেবে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা এবং তার ভেটো দেওয়ার অধিকার থাকায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি উল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সামনে সীমাবদ্ধতা থাকবে।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে এর আগেও ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন ব্যবহার করে সামরিক অভিযান বন্ধের চেষ্টা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদে এ সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে তিনটি প্রস্তাব পাস হলেও সেগুলোর কোনোটিই ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য তার কাছে পৌঁছায়নি। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটেও একবার একই ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন মিলেছিল। তবে পরদিনই রিপাবলিকানরা অবস্থান পরিবর্তন করেন।

নতুন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন অথবা সামরিক অভিযানের অর্থায়ন সীমিত করার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করতে পারেন। তবে এ ধরনের কোনো বিলে ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অকার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করে আসছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটির নেতাদের দাবি, আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শুল্কের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া কিংবা প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিতে পারে দলটি। তবে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি পুরোপুরি পরিবর্তন করা সহজ হবে না।

কংগ্রেসে ক্ষমতার এই পরিবর্তন কার্যকর হবে আগামী জানুয়ারি থেকে। ততদিন পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহাল থাকবে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে পারবেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন