রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আমাদের ২০ হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে : জাতিসংঘে ভারত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

পেহেলগাম হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবার রূপ নিয়েছে সরাসরি সংঘাতে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সীমান্তে গোলাগুলি, ড্রোন ভূপাতিত, যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং সামরিক স্থাপনায় হামলার মতো একাধিক ঘটনা ঘটে গেছে। এতে দুই পক্ষেই অর্ধশতাধিক সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মঞ্চে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। উভয় দেশই একে অপরকে দোষারোপ করে তুলছে কঠোর ভাষায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, জাতিসংঘে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশ বলেন, “গত চার দশকে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।” তিনি পাকিস্তানকে “সন্ত্রাসের বৈশ্বিক কেন্দ্র” বলেও উল্লেখ করেন।

পানি চুক্তি নিয়েও পাল্টাপাল্টি অবস্থান

পাকিস্তান জাতিসংঘে সিন্ধু পানি চুক্তি বন্ধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলে, “পানি জীবন—যুদ্ধের হাতিয়ার নয়।” এর জবাবে ভারত জানায়, সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধ না হলে পানি চুক্তি স্থগিত রাখাই হবে তাদের একমাত্র পথ।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৬৫ বছর আগে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্দেশ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, পাকিস্তান তার বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। “পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে,” বলেন ভারতীয় প্রতিনিধি।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে?

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সীমান্তে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপের খেলায় দুই দেশের মধ্যকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন