বাংলাদেশের চামড়া খাত থেকে প্রতিবছর রপ্তানি আয় বাড়লেও বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারিত্ব এখনও ১ শতাংশের নিচে। ২০২৬ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এই খাতকে ঘিরে নতুন রপ্তানি কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
রোববার (২৫ মে) ডিসিসিআই আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি প্রবৃদ্ধির টেকসই কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক এক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তাসকীন আহমেদ জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এটি কিছুটা কম। চলতি অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) আয় ৯৩২.৫ মিলিয়ন ডলার।
তবে তিনি বলেন,
“চামড়া শিল্প আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে অংশীদারিত্ব আশানুরূপ নয়। এলডিসি স্ট্যাটাস হারানোর পর বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের মানদণ্ড, পরিবেশ, শ্রম এবং ট্রেসেবিলিটির মতো বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে।”
⚠️ চ্যালেঞ্জ যেখানে
চামড়া খাতের উন্নয়নে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব
-
পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ঘাটতি
-
ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং দুর্বলতা
-
সীমিত বাজার নির্ভরতা
-
পণ্যের ডিজাইন ও বৈচিত্র্যের ঘাটতি
✅ করণীয় যা তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ:
-
ট্যানারিতে ইটিপি স্থাপন ও কার্যকর বাস্তবায়ন
-
দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি
-
লজিস্টিকস ও প্যাকেজিং খাতের সঙ্গে সংযুক্তি
-
নতুন বাজারে (এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা) প্রবেশ
-
ইএসজি (ESG) কমপ্লায়েন্স ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিতে পাবলিক-প্রাইভেট সহযোগিতা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম এবং এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যাবে। তাই প্রস্তুতি এখন থেকেই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

