ডিজিটাল যুগে আমরা প্রতিনিয়ত নানা মেসেজ, ই-মেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশনে সাড়া দিচ্ছি। এর অনেকগুলোই সাধারণ বার্তা হলেও কিছু কিছু বার্তা হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ স্ক্যাম বা প্রতারণার মাধ্যম। সামান্য অসতর্কতায় আপনি হারাতে পারেন অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য এমনকি আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তাও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ লক্ষণ জেনে রাখলেই স্ক্যাম মেসেজ চেনা এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।
স্ক্যাম মেসেজ চেনার ৭টি সতর্ক সংকেত:
🔹 ১. অচেনা প্রেরক
যে নাম্বার বা ইমেইল অ্যাড্রেসটি থেকে বার্তাটি এসেছে তা যদি আপনার কাছে অপরিচিত হয়, তাহলে তা খোলার আগেই সতর্ক হোন।
🔹 ২. অবিশ্বাস্য প্রলোভন
“লটারি জিতেছেন!” বা “বিনা মূল্যে পুরস্কার!”— এমন বার্তা সাধারণত স্ক্যামের অন্যতম প্রধান কৌশল।
🔹 ৩. তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত চাওয়া
স্ক্যামাররা বার্তায় সময়ের চাপ তৈরি করে, যেন আপনি দ্রুত ভুল সিদ্ধান্ত নেন। যেমন: “৫ মিনিটের মধ্যে না করলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হবে”।
🔹 ৪. সন্দেহজনক লিংক
মেসেজে থাকা অজানা ওয়েবসাইট লিংকে ক্লিক না করাই নিরাপদ। এতে ফিশিং সাইটে গিয়ে আপনি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করতে পারেন।
🔹 ৫. ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ব্যাংক তথ্য বা ওটিপি চাওয়া হলে নিশ্চিত থাকুন—এটি স্ক্যাম।
🔹 ৬. ভাষাগত ভুল
ভুল বানান, অদ্ভুত গঠন বা গড়পড়তা ইংরেজি—এসব অনেক সময় স্ক্যামের স্পষ্ট লক্ষণ।
🔹 ৭. ভুয়া পরিচয় ব্যবহার
সরকারি বা কর্পোরেট পরিচয়ে কেউ যদি ব্যক্তিগত নম্বর বা জিমেইল থেকে বার্তা পাঠায়, সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।
স্ক্যাম মেসেজ পেলে কী করবেন?
✔️ বার্তাটি এড়িয়ে যান, কোনো উত্তর দেবেন না
✔️ সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না
✔️ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে নিশ্চিত হন
✔️ বাংলাদেশে বিটিআরসি বা পুলিশের সাইবার ইউনিটে অভিযোগ করুন
সতর্ক থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন। প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবন সহজ করেছে, তেমনি অসতর্কতার সুযোগে বেড়েছে প্রতারণার ঝুঁকিও।

