মেক্সিকোতে রোববার (১ জুন) ইতিহাসের প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে বিচারক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুরাঙ্গো রাজ্যে শুরু হওয়া এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। এতদিন বিচারক নিয়োগ হতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, যা নিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের সমালোচনা।
তবে এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই আশাবাদী হলেও তার পাশে রয়েছে প্রবল উদ্বেগ ও বিতর্ক। কেন্দ্রীয় বিচারক প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন এমন ব্যক্তিরাও, যাদের অতীতে মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে লিওপোল্ডো শ্যাভেজের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে মেথামফেটামিন পাচারের দায়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন।
দুরাঙ্গো, যা মেক্সিকোর ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ হিসেবে পরিচিত, মাদক কার্টেল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল। এখানকার পরিস্থিতি বিচার ব্যবস্থার ওপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। শ্যাভেজ নিজেও স্বীকার করেছেন, “আমি নিখুঁত নই, তবে আমি আমার দণ্ড ভোগ করেছি।”
অন্যদিকে, হালিস্কো রাজ্যের অপরাধ ম্যাজিস্ট্রেট ফ্রান্সিসকো হার্নান্দেজ এবং নুয়েভো লিওনের ফের্নান্দো এসকামিলা প্রার্থিতা নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে। হার্নান্দেজকে যৌন নিপীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত করা হয়েছিল, আর এসকামিলা কুখ্যাত ‘লস জেটা’ কার্টেলের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
বিচারিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব প্রার্থী নিয়ে উদ্বিগ্ন, যাদের মধ্যে অনেকে অতীতে অপরাধ বা কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। “সরকার প্রার্থীদের অতীত যাচাই না করে তাড়াহুড়ো করে এই নির্বাচন করায় আইনের শাসন সংকটের মুখে পড়েছে,” বলেছেন ডেফেনসরক্সের প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল মেজা।
এই নতুন বিচারিক সংস্কারের ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা কমে ৯ হয়েছে, বিচারকের মেয়াদ ও যোগ্যতার ন্যূনতম শর্ত হ্রাস পেয়েছে এবং একটি শাস্তিমূলক ট্রাইব্যুনাল চালু করা হয়েছে, যা অনেকেই কার্যকর হবে বলে মনে করছেন না।
মেক্সিকোর এই পরিবর্তন দেশটির দুর্বল বিচার ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলবে কি না, নাকি আরও বড় সংকটের দিকে ধাবিত করবে— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

