সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মদের নিয়ন্ত্রিত বিক্রির অনুমোদন দিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আসন্ন ২০৩০ ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টার্কি টুডে।
সৌদি সরকার ২০২৬ সাল থেকে একটি কঠোর লাইসেন্সিং ব্যবস্থার অধীনে নির্দিষ্ট স্থান ও পরিবেশে অ্যালকোহল বিক্রির অনুমতি দেবে। প্রায় ৭০ বছর ধরে দেশজুড়ে চলা অ্যালকোহল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার এই পদক্ষেপকে ‘ভিশন ২০৩০’-এর বড় এক ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ৬০০ নির্ধারিত স্থানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
-
পাঁচতারকা হোটেল ও আন্তর্জাতিক রিসোর্ট
-
কূটনৈতিক এলাকা (Diplomatic Zones)
-
পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন:
-
নিওম (NEOM)
-
সিনদালাহ আইল্যান্ড
-
রেড সি প্রজেক্ট
-
তবে স্থানীয় জনগণের জন্য অ্যালকোহলের ব্যবহার এখনও নিষিদ্ধই থাকছে। এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক অতিথি ও পর্যটকদের জন্য সীমিতভাবে প্রযোজ্য হবে।
সৌদি সরকার জানিয়েছে, অ্যালকোহল বিক্রি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী বলবৎ থাকবে:
-
বিক্রয় স্থানে লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক
-
বয়স ও পরিচয় যাচাই
-
সরকার অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে বিক্রি নিষিদ্ধ
এই পদক্ষেপকে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশটি তেল-নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, বিনোদন ও বৈশ্বিক বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে।
বিশ্বকাপ ও ওয়ার্ল্ড এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করতে গিয়ে সৌদি সরকার বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু সংস্কার বাধ্যতামূলক বলে মনে করছে। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতেই মূলত এই নীতি পরিবর্তন।
অ্যালকোহল নিয়ে সৌদি সমাজ বরাবরই রক্ষণশীল। ফলে নতুন এই উদ্যোগ কতটা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। ইসলাম ধর্মানুযায়ী মদ হারাম হওয়ায় ধর্মীয় নেতাদের একাংশ ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের ভেতরে সংস্কার-চিন্তার একটি বড় ইঙ্গিত। তবে এটি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য কিভাবে রক্ষা করা হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সৌদি সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রকাশ করেনি। তবে পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক রূপান্তরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

