গাজায় চলমান সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় বন্ধে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছে স্পেন। রবিবার (২৫ মে) মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউরোপ ও আরব বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেন, “গাজার বর্তমান অবস্থা সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো ন্যায্যতা নেই। যদি যুদ্ধ বন্ধ না হয়, তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি স্পেন ও তার মিত্ররা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”

তিনি জানান, আগামী ১৭ জুন নিউ ইয়র্কে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আত্তি বলেন, “ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়নি। তবে আমরা কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখব যাতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়।”
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছে। স্পেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সময় এসেছে আরও কঠোর পদক্ষেপ—যেমন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—নিয়ে ভাবার।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু। অবরোধের কারণে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট চরমে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদ্রিদের এই সম্মেলন শুধু মানবিক উদ্বেগ থেকেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির জন্য নতুন কূটনৈতিক পথ তৈরি করতে পারে। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে দীর্ঘদিন পর এই ধরনের বহুপাক্ষিক বৈঠক ও কূটনৈতিক হুঁশিয়ারি একটি মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ সুগম করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

