রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে উত্তাল দেশ, চাপের মুখে ইউনূস সরকার: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিক্ষোভ নতুন মাত্রা নিয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণে জারি হওয়া এক বিতর্কিত অধ্যাদেশ ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ার পর এবার আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষক সমাজও।

রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেন, যার ফলে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীরা দাবি করছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন অধ্যাদেশটি তাদের চাকরি নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি কর্মচারীদের অসদাচরণের অভিযোগে বরখাস্ত করার ক্ষমতা পাচ্ছে সরকার। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এটি একপ্রকার “দমনমূলক নীতির” বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে, বেতন বৈষম্য ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হবে, ততক্ষণ তারা কর্মস্থলে ফিরবেন না।

ইতোমধ্যে এনবিআরের পুনর্গঠনের আদেশ বাতিল করে সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি আংশিকভাবে মেনে নিলেও বিক্ষোভ থামেনি। প্রশাসনিক মহলে চলছে টানাপোড়েন।

সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শনিবার জানিয়েছেন, “আমরা এই সংকট অতিক্রমে অঙ্গীকারবদ্ধ। অধ্যাপক ইউনূস কোনো পরিস্থিতিতেই পদত্যাগ করছেন না।”

২০২৩ সালের শেষের দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। ইউনূস প্রশাসন বলছে, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

সেনাবাহিনীর অবস্থানও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত।” তার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার ড. ইউনূস একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে এই সংলাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এখনো আলোচনার বাইরে। দলটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন