সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রাথমিক শিক্ষায় ক্লাস কম, ছুটি বেশি—শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে ফের আলোচনায় সরকারি স্কুলের কার্যক্রম

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। ফলে দেশের হাজারো স্কুলে থমকে গেছে পাঠদান। ঠিক এই সময়েই নতুন করে আলোচনায় এসেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ছুটি ও শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান।

অভিভাবকরা বলছেন, সরকারি স্কুলে ছুটি যেমন বেশি, তেমনি ক্লাসও হয় কম। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার বুনিয়াদ দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শিক্ষা জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, সরকারি স্কুলে মোট ৭৮ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে অতিরিক্ত ৩ দিন। সাপ্তাহিক ছুটির (শুক্র ও শনিবার) সংখ্যা ১০২ দিন ধরে মোট ছুটি দাঁড়ায় ১৮০ দিন—অর্থাৎ পুরো বছরের প্রায় অর্ধেক সময় স্কুল বন্ধ থাকে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর এক অভিভাবক আজিজুর রহমান বলেন,
“স্কুলে ক্লাস হয় না বললেই চলে। আজ এটা নিয়ে বন্ধ, কাল ওটা নিয়ে। শিক্ষকদের অনেকেই ক্লাস না নিয়ে গল্প-আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন। ছুটির হিসাবটা আবার এত বেশি যে স্কুলে পাঠিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছি না।”

শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস কম হওয়ার কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় পাঠ ঠিকমতো রপ্ত করতে পারছে না। ফলে তারা শিখন ঘাটতি নিয়ে মাধ্যমিকে প্রবেশ করছে, যা ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একজন প্রাথমিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেন,
“যতটা সময় শিশুরা স্কুলে থাকছে, সেটাও যদি সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানো যেত, তাহলে সমস্যা এতটা প্রকট হতো না। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা জানান,
“সরকার শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি পূরণ সম্ভব নয়।”

ছুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবকাশকালীন চাকরিতে রয়েছেন, তাই নির্ধারিত ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন। আপাতত ছুটি কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আমরা চাই, ক্লাস চলাকালে সময়টা যেন সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো হয়।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন