বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চালু হয়েছে ইনডোর রোগী ভর্তি সেবা। এই ঐতিহাসিক সূচনার প্রথম দিনেই অর্জিত হয়েছে বড় সাফল্য—বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের দুই তরুণ খেলোয়াড়ের হাঁটুতে সফলভাবে এসিএল রিকনস্ট্রাকশন (ACL Reconstruction) সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।
২০ বছর বয়সী এই দুই খেলোয়াড় দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরিতে ভুগছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাদের ভর্তি করা হয় বিএমইউ’র অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অস্ত্রোপচার চলে ঘণ্টাব্যাপী, আলাদাভাবে দুইজনের জন্য।
অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন ছয় সদস্যের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিএমইউ’র অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইকবাল মাহমুদ। সার্জারিতে আরও অংশগ্রহণ করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও ডা. মো. আলী হায়দার।
অপারেশনের পর বিএমইউ’র প্রক্টর এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের স্পোর্টস মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শেখ ফরহাদ জানান—
“দুই খেলোয়াড়ই বর্তমানে সুস্থ আছেন। আমরা আশা করছি দ্রুতই তারা মাঠে ফিরতে পারবেন। ইনডোর সার্ভিসের শুরুতেই এমন একটি সফল চিকিৎসা আমাদের সেবার মানের প্রতিফলন।”
অস্ত্রোপচারের পর দুই খেলোয়াড়ই চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এমন একটি অত্যাধুনিক, বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে মানসম্মত চিকিৎসা পেয়ে তারা কৃতজ্ঞতা জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের।
উল্লেখ্য, বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এর আগে থেকেই প্রতিদিন দুই শিফটে বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ সেবা চালু ছিল। এবার ইনডোর সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
খেলোয়াড়দের চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরেই এমন আধুনিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা এখন সম্ভব হওয়ায় বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে, যা সময় ও খরচ—উভয়ই বাঁচাবে।

