সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় খালাস পেলেন সাংবাদিক শফিক রেহমান, বললেন “এখন বিচার বিভাগ স্বাধীন”

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় সাত বছরের সাজা পাওয়া প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান আপিলের মাধ্যমে খালাস পেয়েছেন। দীর্ঘ ৯ বছর আইনি লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন শফিক রেহমান। খালাসের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
“সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় বিচারকদের, তারা প্রমাণ করলেন—এখন বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।”

২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় এ মামলা করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েকজন নেতা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

২০১৮ সালে পুলিশ শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন।

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর রায়ে সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।

২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শফিক রেহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন ও আপিলের আবেদন করেন। পরে তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হয় এবং সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়।

চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল আপিল শুনানি শেষে বিচারক শেখ তারিক এজাজ রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। অবশেষে ২৭ মে তিনি শফিক রেহমানকে খালাস দেন।

এই মামলাকে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে আসছিলেন শফিক রেহমান ও তার পরিবার। খালাসের পর তার আইনজীবী আব্দুস সালাম হিমেল বলেন—
“আইনি প্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটিত হয়েছে। এটা বিচার বিভাগের জন্য একটি সাহসিকতার উদাহরণ।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন