বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত (মাসিক বেতন আদেশ) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা (বোনাস) দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে তারা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস পেতেন, যা এখন বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এই বাড়তি ভাতা আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই তাদের হাতে পৌঁছাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সোমবার (২৬ মে) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে, নতুন ভাতা প্রদানকালে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম দেখা দিলে বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে; এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারির পরই ভাতা কার্যকর হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে উৎসব ভাতা বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার সমানাধিকারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত মার্চে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তাদের এই দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আগামী বাজেটে তাদের উৎসব, চিকিৎসা ও বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।” এছাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিল গঠনের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন “এমপিও-ভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট” তাদের আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তারা আশা করছেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে তাদের আন্দোলন আর প্রয়োজন হবে না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। নতুন ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ২২৯ কোটি টাকা।
এটি শিক্ষকদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুখবর, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও কর্মক্ষেত্রে আরও উৎসাহ জোগাবে।

