দেশজুড়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ (বুধবার) একটি সার্কুলারের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট লেনদেন তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারিকৃত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও জুয়াসংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেন শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে,
“লেনদেনের ধরন ও গন্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সংযোগ রয়েছে এমন গ্রাহক বা মার্চেন্ট চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI-based) বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।”
এছাড়া, সন্দেহজনক কোনো লেনদেন বা গ্রাহক আচরণ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সদ্য প্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই আইনের আওতায় ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা, অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টুল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া, অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা, ঝুঁকি ও আর্থিক প্রতারণা সম্পর্কে তথ্যপ্রচারে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, যেসব মার্চেন্ট নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার তথ্য দিয়ে ব্যাংকে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের কার্যক্রম সেই এলাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে লোকেশনভিত্তিক জালিয়াতি বা ভুয়া লেনদেন প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,
“এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ প্রতিরোধই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশের তরুণ সমাজকে জুয়া থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে।”

