রাজধানীসহ সারা দেশে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক করেছিল দুর্ধর্ষ অপরাধী চক্র ‘সুব্রত বাইন বাহিনী’। লক্ষ্য ছিল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের হত্যা করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতা তৈরি করা। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সূত্র জানায়, এই পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা, যারা বিদেশে অবস্থান করছেন। সহযোগী হিসেবে ছিলেন সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবেশী দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অর্থ এসেছে, যা দিয়ে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র ক্যাডার নিয়োগ করা হয়। অস্ত্রগুলো সীমান্ত অঞ্চল (যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ) থেকে এনে ঢাকার মগবাজার, বাড্ডা, শাহবাগ ও গুলশান এলাকায় বিতরণ করার প্রক্রিয়া চলছিল।
মঙ্গলবার রাতে হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তরের পর বুধবার আদালতে হাজির করা হয় সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, শ্যুটার আরাফাত ও এমএএস শরীফকে। আদালত সুব্রতকে ৮ দিনের এবং বাকিদের ৬ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত, এবং দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছিল। এদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস ও আর কে কে জড়িত—তা খুঁজে বের করাই এখন গোয়েন্দা পুলিশের মূল লক্ষ্য।
আদালতে সুব্রত বলেন, “আমি ১৯৮৭ সাল থেকে কোনো প্রতিবাদ করিনি। আমাকে ২০২২ সালে ‘আয়নাঘরে’ রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।” নিজের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, বিএনপি-জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগের একটি অংশ। তারা চেয়েছিল, হত্যাকাণ্ডগুলো ‘ক্ষমতার দ্বন্দ্ব’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হোক।
এই চক্রের সদস্যরা মূলত নতুন প্রজন্মের, এলিট শ্রেণির তরুণ যারা পুলিশের নজরদারির বাইরে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দারা সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করেছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে।

