আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জনগণের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এ দুটি খাতের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। বরাদ্দ কমাতে হলে এর ব্যবহার নিয়ে নতুন গণমুখী নীতি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৮ মে) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. ফজলুর রহমান বলেন, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পেলে তার প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে পড়বে। উন্নত বিশ্বে এগুলোকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হয়, আমাদেরও তা করা উচিত।”
সঙ্গতিপূর্ণ অভিমত দেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার। তিনি বলেন, “সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় থেকে আসে মাত্র ২৩ শতাংশ, বাকি ৭৭ শতাংশ জনগণ নিজের পকেট থেকে দেয়। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে কম আয়ের মানুষকে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি।”
তার মতে, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় অনুব্যয়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এমন খাত, যেমন বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ, তাতে বরাদ্দ দিলে সুফল পাওয়া যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন জানান, বাজেটে শিক্ষার নামে অবকাঠামো নির্মাণ ও কেনাকাটায় ব্যয় হয় বিপুল অর্থ, কিন্তু শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বরাদ্দ কম থাকে।
তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরে শিক্ষা উন্নয়ন বাজেটের ৮২ শতাংশই অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে। অথচ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন ইত্যাদিতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী জানান, যেসব দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হয়েছে, তারা বাজেটের ১৬% শিক্ষা এবং ৯% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সেখানে মাত্র ১২% ও ৩% বরাদ্দ দিয়ে ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিতে যাচ্ছে।
সংলাপে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা। তারা প্রশ্ন তোলেন, “জাতীয় বাজেটে বারবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবহেলিত হয় কেন? কীভাবে উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে?”
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ড. মাহবুব হাসান।

