জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করেছে দলটি। দলের অভ্যন্তরীণ তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় এবং ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২১ মে, রাজধানীর ধানমন্ডিতে “সমন্বয়ক” পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন তরুণকে পুলিশ আটক করে। পরে এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ থানায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মুচলেকা দিয়ে ওই তিনজনকে ছাড়িয়ে আনেন।
এই ঘটনার পরপরই দলের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
“আবদুল হান্নান মাসউদ লিখিত জবাবে ঘটনার ভুল দিকগুলো স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। সেই সঙ্গে আটক তিনজনের সঙ্গে তাঁর কোনো সাংগঠনিক বা নীতিগত সম্পৃক্ততা ছিল না— এমন প্রমাণও পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করেছেন।”
দলের রাজনৈতিক পর্ষদ তার ব্যাখ্যা ও দায় স্বীকারকে সন্তোষজনক মনে করায়, কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আটককৃত তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি, যাকে আগেই দলীয় নৈতিকতার প্রশ্নে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে সমালোচনা ওঠে যে, কেন বহিষ্কৃত নেতাদের ছাড়িয়ে আনতে জড়িত হলেন মাসউদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রতি এনসিপির অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভুল সংশোধনের সুযোগ রাখা দলের পরিপক্বতার ইঙ্গিত।”

