আগামী ২ জুন ঘোষিত হতে যাচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। এবার বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া হলেও, দেশীয় শিল্প খাতের সামনে নতুন প্রতিযোগিতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে খাদ্যপণ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালে শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কিছু পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এই উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় উৎপাদনে।
চাপে পড়তে পারে যেসব শিল্প খাত
শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানি পণ্যের প্রবাহ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। এতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খেতে পারে:
-
পিভিসি পাইপ শিল্প
-
কপার ওয়্যার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
-
ব্যাটারি ও মোটর নির্মাণ খাত
-
লিফট, এলইডি বাতি, টায়ার-টিউব শিল্প
-
রাইস ব্র্যান ওয়েল প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত
বিদেশি সফটওয়্যারের শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৫% করার প্রস্তাবে উদ্বেগে দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতারা। অপরদিকে, কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক ৫% থেকে ১% করা হচ্ছে বন্ড অপব্যবহার ঠেকাতে, যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা
-
চিনি, সয়াবিন তেল, লবণ, বাটার
-
ইনসুলিন ও এর প্যাকেজিং উপকরণ
-
বিদেশি জুস, পশুখাদ্য, জ্বালানি তেল
-
কাগজ, কালি, নিউজপ্রিন্ট, আর্ট পেপার
-
পরিবেশবান্ধব ফ্রুট ব্যাগ, ব্রেক প্যাড, ক্রিকেট ব্যাট
বিশ্ববাজারে রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানিজ স্ক্যালোপ আমদানিতে শুল্ক ২৫% থেকে ৫%-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, “শুল্ক হ্রাস একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে হলে প্রয়োজন কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা। শুধু ভোক্তা স্বস্তির দিক না দেখে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে।”

