মেসি, নেইমার আর এমবাপের মতো তিন মহাতারকাকে নিয়েও যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় অধরা থেকে যেতে পারে, তা প্রমাণ করেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে কৌশল, বদলেছে মানসিকতা—এবং তারই ফসল এবার প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা হওয়ার গৌরব।
শনিবার রাতে মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তোলে পিএসজি। এই জয় শুধু তাদের ইতিহাস নয়, ফরাসি ফুটবলের জন্যও যুগান্তকারী—মার্সেইয়ের পর প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বে পা রাখলো তারা, সেটিও ৩২ বছর পর।
২০২১ সালের গ্যালাক্টিকো স্কোয়াড—মেসি, নেইমার, এমবাপে—ঘরোয়া সাফল্য এনে দিলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির ভাগ্যে ছিল হতাশা। দু’বার টানা বিদায় নিতে হয় শেষ ষোলো থেকেই।
তবে তারকানির্ভরতা থেকে বেরিয়ে ২০২3 সালের পর পিএসজি নেয় নতুন কৌশল: অল্প খরচে তরুণ প্রতিভা দিয়ে দল গঠন। দায়িত্ব পান কোচ লুইস এনরিক, যিনি বার্সেলোনাকে দিয়েছিলেন ট্রেবল। সঙ্গে স্পোর্টিং ডিরেক্টর লুইস ক্যাম্পোসের যৌথ পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে এক “নতুন পিএসজি”।
এনরিকের পিএসজি তারকানির্ভর নয়, বরং পরিকল্পনাভিত্তিক। দলে কেউ অপরিহার্য নয়, সবাই প্রস্তুত রাখে নিজেকে শতভাগ। ৩১ বছর বয়সী মারকুইনহোস সবচেয়ে অভিজ্ঞ হলেও গড় বয়স মাত্র ২৫।
দলে আছেন—
- উসমান ডেম্বেলে (মূল স্কোরার)
- দেজিয়ের দুয়ে (২০)—জোড়া গোলদাতা
- ব্রাডলি বারকোলা—ইউরোপের অন্যতম সেরা ড্রিবলার
- জানুয়ারিতে যোগ দেওয়া কাভারেস্কাইয়া
- সেনি মায়লুলু—নতুন বিস্ময়
সাবেক বার্সা ও স্পেন কোচ এনরিক শুধু ট্যাকটিকসই বদলাননি, খেলোয়াড়দের মানসিকতায়ও আমূল পরিবর্তন এনেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলেন সবাইকে—শুধু একাদশ নয়, বেঞ্চেও যেন থাকে জয়ের ক্ষুধা।
সাংবাদিক অ্যালিস লেফেভ্রে বলেন,
“এনরিক যতদিন থাকবেন, পিএসজিকে আর তারকানির্ভর দল বলা যাবে না।”
ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ফাইনালে যেন ছেলেখেলা করেই জিতলো পিএসজি। গোল করেন:
-
দেজিয়ের দুয়ে (২টি)
-
আশরাফ হাকিমি
-
খভিচা কাভারেস্কাইয়া
-
সেনি মায়লুলু
তিন বছর আগের বিলিয়ন ডলারের স্কোয়াড না থাকলেও, পিএসজির আজকের সফলতা প্রমাণ করে দিয়েছে—শুধু অর্থ নয়, কৌশল, দলবদ্ধ প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনার জয়ই সবচেয়ে বড়।

