বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদে পরিবর্তন নিয়ে চলমান আলোচনার মাঝেই স্পষ্ট বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিসিবিতে নতুন নেতৃত্ব আসা সরকারি হস্তক্ষেপ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে।
সম্প্রতি বিসিবির আটজন পরিচালক বিদায়ী সভাপতি ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ দাবি করলে বোর্ডে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এরপরই সাবেক ক্রিকেটার ও আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের ভূমিকা নিয়ে। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, “এখানে সরকার সভাপতিকে অপসারণ করেনি। সরকারের এখতিয়ার অনুযায়ী দুইজন পরিচালক বদল করা হয়েছে। এরপর পরিচালকরাই নিয়ম অনুযায়ী নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছেন।”
তিনি আরও জানান, আইসিসির সঙ্গে বিসিবির নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং এই নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কোনো আপত্তি নেই। বরং বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট বাস্তবতা বিবেচনায় তারা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “ফারুক ভাইয়ের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। আমি বলেছিলাম, আপনি যদি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান, তাহলে ব্যাপারটি সম্মানজনকভাবে সমাধান হবে। কিন্তু সেটা সম্ভব না হওয়ায় আমাদের বিকল্প পথ নিতে হয়েছে। কাউকে জোর করে অপসারণ করা হয়নি।”
আসিফ মাহমুদ জানান, দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক অবস্থা এবং সম্প্রতি বিপিএল নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ তদন্তের ভিত্তিতেই বোর্ডে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “ব্যক্তি নয়, আমরা ভাবছি দেশের ক্রিকেট কীভাবে উন্নতি করবে।”
তিনি বলেন, “আমিনুল ভাইকে যখন প্রস্তাব দেওয়া হয়, উনি সম্মানের জায়গা থেকেই দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন। তাকে কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি, বিসিবির নির্বাচন রয়েছে অক্টোবরে। তার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।”
যদিও ক্রীড়া উপদেষ্টা আইসিসির সমর্থনের কথা বলেছেন, তবে এ বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত আরও স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ায় নেওয়া উচিত।

