অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সোমবার অনুমোদিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
নতুন এই বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় থেকে শুরু করে বিলাসপণ্য পর্যন্ত অনেক কিছুর দাম বাড়তে পারে।
যেসব পণ্যে খরচ বাড়বে
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে:
-
মোবাইল ও মোবাইল সেবা: মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ই-সিম ফি বাড়ানো হয়েছে ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়।
-
ওয়াশিং মেশিন, ব্লেন্ডার, মাইক্রোওভেন, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক কেটলি ও ইস্ত্রি: দেশে তৈরি এসব গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ওপর ৭.৫% ভ্যাট আরোপ।
-
সিগারেট ও ই-সিগারেট: সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক এবং ই-সিগারেট আমদানিতে মোট কর দাঁড়িয়েছে ২১২ শতাংশের বেশি।
-
এলপিজি সিলিন্ডার ও গৃহস্থালি প্লাস্টিক সামগ্রী: কাঁচামাল ও তৈরি পণ্যের ওপর নতুন কর আরোপ।
-
ওটিটি কনটেন্ট ও সেটআপ বক্স: ডিজিটাল কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে কর বাড়ানো হয়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
-
বাণিজ্যিক স্পেস ও ফ্ল্যাট: সম্পত্তি খাতে ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে বাড়ি কেনা হতে পারে আরও ব্যয়বহুল।
তবে কিছু খাতে শুল্ক ও কর কমানো হয়েছে। যেমন:
-
কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার ও সার্জিক্যাল সামগ্রী: চিকিৎসা খরচ কমাতে এসব পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
-
কিছু উৎপাদন খাতে কাঁচামাল: নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণে শুল্ক রেয়াতে দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই বাজেট ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। প্রযুক্তিপণ্য ও ঘরোয়া ব্যবহারের জিনিসে কর বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে কিছু শুল্ক ছাড় কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

