মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম আজ (বুধবার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর খবরের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামানসহ মুজিবনগর সরকারের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা মর্যাদা বাতিলের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
ফারুক ই আজম জানান, নতুন অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যারা সরাসরি রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, কেবল তারাই ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। অন্যদিকে, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন, কূটনৈতিক সহায়তা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনসহ অন্যান্য সহযোগিতা করেছেন, তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা, যেমন শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামান, খন্দকার মুস্তাক আহমদসহ অন্যান্যরা, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি সঠিক নয়, কারণ তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
ফারুক ই আজম আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়নি। যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন, তাদের অবদান অসাধারণ। তাদেরকে সম্মানিত করা হচ্ছে, এবং রাষ্ট্রের দেওয়া সুযোগ-সুবিধায় কোন বৈষম্য নেই।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোর সঙ্গে সিরিজ মিটিং করেছি। এটা তাদের সবারই দাবি এটা আমরা নতুন করে প্রবর্তন করিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের এই সংজ্ঞা ১৯৭২ সালে ছিল, ২০১৮ তে এসে এই সংজ্ঞাটা পরিবর্তন করা হয়। ২০২২-এ এসেও পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭২ সালে যে সংজ্ঞাটা ছিল আমরা সেটা ফিরিয়ে নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রাখা।’

