বিশ্বজুড়ে ফের বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। নতুন নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ জনগণের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা ঘোষণা করেছে।
আজ (বুধবার) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, “আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ সতর্কতামূলক নির্দেশনা:
-
জনসমাগম এড়িয়ে চলা। প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
-
নিয়মিত মাস্ক পরিধান করুন, বিশেষত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এড়াতে।
-
হাঁচি-কাশির সময় নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন (কনুই বা টিস্যু ব্যবহার করুন)।
-
ব্যবহৃত টিস্যু নিরাপদভাবে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
-
২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে ফেলুন, সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে।
-
অপরিষ্কার হাতে চোখ, মুখ বা নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
-
আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হাসপাতাল ও পরীক্ষা ব্যবস্থায়:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে আবারও RT-PCR ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে টিকা, ওষুধ, অক্সিজেন, আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ সব ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিই, ফেস শিল্ড ও কেএন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর:
সীমান্ত দিয়ে ভাইরাসের প্রবেশ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি (IHR) অনুযায়ী নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরভাবে মানা হয়।

