রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আগামী ২৫ বছর ঠান্ডা আবহাওয়ায় হজ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আগামী ২৫ বছর ধরে আর গ্রীষ্মের দাবদাহে হজ পালন করতে হবে না বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের। সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে, চন্দ্রপঞ্জি অনুযায়ী হজের সময় এখন থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা মৌসুমে সরতে শুরু করেছে। ফলে হাজীরা হজ পালন করবেন বসন্ত, শীত ও শরতের মতো অপেক্ষাকৃত সহনীয় আবহাওয়ায়।

সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিটিওরলজির মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলতি বছরই (২০২৫) শেষবারের মতো গরম মৌসুমে হজ পালিত হচ্ছে। পরবর্তী বছরগুলোতে হজের সময় প্রতিনিয়ত এগোতে থাকায় এটি ধীরে ধীরে ঠান্ডা ঋতুতে স্থানান্তরিত হবে।

হজের সময়সারণী ভাগ হলো তিন পর্বে:

১. ২০২৬ থেকে ২০৩৩: হজ পড়বে বসন্তকালে (মার্চ-মে)।
২. ২০৩৪ থেকে ২০৪১: শীতকালীন হজ (ডিসেম্বরের শেষ, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি)।
৩. ২০৪২ থেকে ২০৪৯: শরৎকালে হজ (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর)।
৪. ২০৫০ সাল থেকে: হজ আবার গ্রীষ্মকালে ফিরে আসবে।

কেন এই পরিবর্তন?

ইসলামিক হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় হিজরি বছর প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। এর ফলে হজের সময়ও প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়।

এই পরিবর্তনের প্রভাব:

হাজীদের জন্য
শীত বা বসন্তকালের সহনীয় আবহাওয়ায় হজ পালন অনেকটাই আরামদায়ক হবে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির সংবাদ।

হজ ব্যবস্থাপনার জন্য
ঠান্ডা আবহাওয়ায় তীব্র গরমজনিত সমস্যা যেমন হিটস্ট্রোক, পানির সংকট বা অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ অনেকটাই কমবে। ফলে চিকিৎসা, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।

স্মার্ট সিদ্ধান্ত বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশ্লেষকদের মতে, আবহাওয়া বিবেচনায় হজের এই সময় পরিবর্তন প্রাকৃতিক নিয়মেই হয়ে থাকলেও এর সুফল অসাধারণ। এটি সৌদি সরকারের হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণেও সহায়ক হবে।

 ভবিষ্যতের হজ হবে আরও স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল

এই পরিবর্তনের ফলে মুসলিম বিশ্বের পরবর্তী প্রজন্ম অপেক্ষাকৃত ভালো আবহাওয়ায় হজ পালনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, হজ সংক্রান্ত অবকাঠামো ও সেবাব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সৌদি গেজেট, গালফ নিউজ

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন