রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানে ইসরায়েলের হামলা বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও উদ্বেগের ঝড় উঠেছে এবং পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলের পূর্বসতর্কতামূলক হামলা

“নেশন অব লায়ন্স” (Nation of Lions) কোডনামে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সদর দপ্তরসহ একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত তাৎক্ষণিক হুমকির জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের জনগণের সুরক্ষায় দৃঢ় ও পূর্বপ্রস্তুত পদক্ষেপ নিয়েছি। যতক্ষণ না আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে, এই অভিযান চলবে।”

ইসরায়েল সরকার ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, হামলায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে তেহরানে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের দিকে ১০০টিরও বেশি সশস্ত্র ড্রোন ছুঁড়েছে ইরান, যেগুলো প্রতিহত করতে তৎপর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: উদ্বেগ, নিন্দা ও সংযমের আহ্বান

সৌদি আরব

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই হামলাকে “আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন” এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

চীন

চীনের তেহরান দূতাবাস পরিস্থিতিকে “গম্ভীর ও জটিল” বলে উল্লেখ করে চীনা নাগরিকদের ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, “এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা চালালে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।”

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসন এই হামলাকে “অপ্রত্যাশিত ও ঝুঁকিপূর্ণ” আখ্যা দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ওমানে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে।

জাতিসংঘ

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক সামরিক উত্তেজনা হিসেবে চিহ্নিত করে দুই পক্ষকে “সর্বোচ্চ সংযম” প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এবার কী হবে?

রাজনৈতিক সংলাপ মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা এবং পারমাণবিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সংঘাত থামাতে মরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ না হলে এই পরিস্থিতি একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন