রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘আ.লীগের ভুল ছিল, আজকের অবস্থা ভুলেরই শাস্তি’

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের সহযাত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদে এক দশক দায়িত্বপালনকারী মো. আবদুল হামিদ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, “ভুল ছিল বলেই আজ এই পরিণতি। সরকার যখন স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তখন জনগণ সায় দেয় না।”

দেশে ফিরে ক্যানসারের চিকিৎসা শেষে এখন পরিবারপরিমিত জীবনে কাটাচ্ছেন মো. আবদুল হামিদ। নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, গত ১৬ বছরে নানা ভুল সিদ্ধান্ত ও একচ্ছত্র শাসনের কারণেই দলটি আজ ইতিহাসের কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে।

তার শ্যালক ডা. আনম নওশাদ খান যুগান্তরকে জানান, “তিনি প্রায়ই বলেন—২০১২ সালেই বলেছিলাম, স্বৈরাচারী হলে জনগণ বেশিদিন সায় দেবে না।”
বর্তমানে আওয়ামী লীগ কার্যত নিষিদ্ধ, শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতারা কেউ পলাতক, কেউবা জেলে। দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শারীরিকভাবে চলাফেরা করতে না পারলেও আবদুল হামিদ নিয়মিত দেশ ও রাজনীতির খবর রাখেন। খবরের কাগজ পড়েন, টিভি দেখেন। তবে দল কিংবা শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলেই নিশ্চিত করেছেন নওশাদ খান।

উদ্ধৃতিসমূহ:

“আমরা যদি ভুল না করতাম, তাহলে আজকের এই অবস্থা হতো না।” — আবদুল হামিদ
“সরকার স্বৈরাচারী হলে জনগণ সায় দেয় না, এটা আমি আগেই বলেছিলাম।” — আবদুল হামিদ
“দেশে ফিরে দেশের মাটিতেই মরতে চেয়েছি। বিদেশে নয়।” — আবদুল হামিদ

নওশাদ খানের ভাষ্যমতে, আবদুল হামিদের ফুসফুসের ক্যানসার এখন ‘থ্রি টু ফোর স্টেজ’-এ রয়েছে, যা শেষ পর্যায়ে ধরা হয়। একা চলাফেরা করতে পারেন না, সহায়তায় চলাফেরা করেন।
নিজের অসুস্থতা নিয়ে তিনি বলেন, “নামাজ-কালাম পড়তে পারি না। আল্লাহই জানেন কী হবে।”

বঙ্গভবনে দশ বছর কাটালেও হাওড়ের সাধারণ মানুষের কথা ভুলে যাননি আবদুল হামিদ। এখনো তাদের খোঁজখবর নেন, সুযোগ পেলে যেতে চান এলাকায়। যদিও শারীরিক অবস্থা সেই সুযোগ দেয় না।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের এই মুখপাত্র এখন আর রাজনীতির মঞ্চে নেই, তবে তার কথাগুলো যেন ইতিহাসের বার্তা হয়ে থেকেই যাচ্ছে। ক্ষমতা, দম্ভ আর ভুল নীতির মাশুল কীভাবে রাজনীতির মাঠে দিতে হয়—তার সাক্ষী হয়ে রয়েছেন আবদুল হামিদ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন