ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র প্রিন্স রেজা পাহলভি। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত এই প্রবাসী রাজপুত্র ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন এবং সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সামাজিক মাধ্যমে তার দেওয়া বার্তাগুলোতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনই ইরানের জন্য মুক্তির পথ। তিনি বলেন, “এটি জনগণের লড়াই নয়, এটি খামেনির সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ।”
তাঁর বক্তব্য পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মত। বিশেষ করে যখন তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়া উচিত — যা ছিল শাহ আমলের বাস্তবতা।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকরা রেজা পাহলভির কথাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বজায় রাখতে ইরানের রাজনৈতিক দুর্বলতা পশ্চিমাদের স্বার্থে কাজ করে।
আভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও বিভাজন
তবে দেশের ভেতরে ও প্রবাসী ইরানিদের মধ্যেই রয়েছে তীব্র মতভেদ। কেউ কেউ মনে করছেন, রেজা পাহলভি দেশের জন্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করতে পারেন। আবার অনেকে তাঁর পরিবারকেই অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের জন্য দায়ী করেন এবং বিদেশি মদদে তাঁর পুনরুত্থানকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে দেখেন।
ইসরায়েলি হামলার পেছনের উদ্দেশ্য?
শুক্রবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে চালানো হামলাকে শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি দমন নয়, বরং সরকার পতনের কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, “জনগণ রাস্তায় নামলে সরকার নিজেই ভেঙে পড়বে।” এই বক্তব্যে রেজা পাহলভির ভূমিকাও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
ইরানে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের দাবি নতুন কিছু নয়। তবে রেজা পাহলভির সাম্প্রতিক সক্রিয়তা এবং পশ্চিমা সমর্থনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে—ইরানের ভবিষ্যৎ কি নতুন গণতন্ত্রের পথে এগোবে, না কি বিদেশি স্বার্থের বলিতে আবারও একটি অস্থির অধ্যায় শুরু হবে?
তথ্যসূত্র: বিবিসি, ফ্রান্স ২৪, টাইম, জেরুজালেম পোস্ট, দ্য জিউস ক্রোনিক্যাল

