তেল আবিবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। শনিবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কৌশলগত জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলতে পারবে না। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, আর তেলের দাম বেড়েছে বিশ্ববাজারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। সংকীর্ণ এই পানিপথটি ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তেল সরবরাহে। বিশ্লেষকরা বলছেন, “এটা কেবল একটি সাময়িক কৌশল নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি প্রতিশোধ নিতে চায়, একইসঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং গালফ সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা বাড়ছে।
ইরানের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪-৫ ডলার বেড়ে যায়। এশীয় বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে রিঅ্যাকশন দেখা দেয়, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ভারতের তেল আমদানি কার্যক্রমে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনী সক্রিয় রেখেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

