কোরআনের আলোকে ইহুদি জাতির পরিচয় ও প্রকৃতি

ধর্ম
কোরআনের আলোকে ইহুদি জাতির পরিচয় ও প্রকৃতি
নিউজ ডেস্ক
১৯ জুন ২০২৫

আল-কোরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থই নয়, এটি ইতিহাস, নীতি ও মানবজীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে চমৎকার বিশ্লেষণ তুলে ধরে। কোরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে ইহুদি জাতির নানা দৃষ্টান্ত, যারা একসময় নবী-রসুল ও আসমানি কিতাবপ্রাপ্ত সম্মানিত জাতি ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে তারা অহংকার, সত্য অস্বীকার ও ষড়যন্ত্রের কারণে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়।

ইহুদি জাতি হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধর। তাদের ‘ইহুদি’ নামটি এসেছে ‘ইয়াহুদা’ থেকে, যিনি হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর জ্যেষ্ঠপুত্র ও হজরত ইউসুফ (আ.)-এর ভাই। ইয়াহুদা শব্দের অর্থ ‘তাওবাকারী’। গো-বৎস পূজা থেকে তাওবা করার কারণে তাদের এই নামকরণ হয় (তাফসিরে কুরতুবি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৮)।

তবে নবী মুসা (আ.)-এর পর প্রেরিত নবী হজরত ঈসা (আ.) ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে অস্বীকার করায় তারা ঈমানহীন অবস্থায় রয়ে গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পবিত্র কোরআনে ‘ইহুদি’ শব্দটি মোট ৯ বার এসেছে। বিভিন্ন আয়াতে তাদের চরিত্র, বিশ্বাসের দুর্বলতা এবং ষড়যন্ত্র প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। সুরা হাশরের এক আয়াতে আল্লাহ বলেন:

“তোমাদের ভয় তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থেকেও বেশি। কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কিছুই বুঝে না।”
(সূরা হাশর: ১৩)

ইহুদি জাতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে তাদের একত্রে যুদ্ধ না করার মানসিকতা ও হৃদয়ের বিভাজনকেও তুলে ধরেছেন আল্লাহ:

“তারা একত্রিত হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না, শুধু দুর্গবেষ্টিত জনপদে অথবা দেয়ালের আড়াল থেকে। তাদের পরস্পরের শত্রুতা প্রচণ্ড, তুমি তাদের এক মনে করবে, কিন্তু তাদের অন্তর বিভক্ত।”
(সূরা হাশর: ১৪)

তারা নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে দাবি করত, পরকালে শুধু তারাই সফল হবে। কিন্তু কোরআনে আল্লাহ তাদের চ্যালেঞ্জ করেন:

“বল, যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরা আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং পরকালের সাফল্য শুধু তোমাদের জন্যই সংরক্ষিত, তাহলে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো—যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা কখনই মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না…”
(সূরা বাকারা: ৯৪-৯৬)

ইহুদিদের ইতিহাস আমাদের জন্য শিক্ষনীয়। তারা আসমানি কিতাব ও নবীর প্রতি বিশ্বাস না রেখে বিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র ও অহংকারে লিপ্ত হয়েছিল বলেই আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। পবিত্র কোরআনের আলোকে মুসলমানদের উচিত, আত্মশুদ্ধি, ইমানদারিত্ব এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে সত্যিকারের মুত্তাকি হয়ে ওঠা।