সৌদির পাঠ্যবইয়ে কোরআন-হাদিস ছাঁটাই, ইসরায়েলে প্রশংসা

সৌদির পাঠ্যবইয়ে কোরআন-হাদিস ছাঁটাই, ইসরায়েলে প্রশংসা
২০ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। দেশটির পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনও জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’—এমন একটি বক্তব্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের পাঠ্যক্রম নিয়ে একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করে ইমপ্যাক্ট-সে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সংস্করণে জেরুজালেম নিয়ে ওই বক্তব্যটি আর রাখা হয়নি।

গবেষণা সংস্থাটির দাবি, আগের বক্তব্যটি এমন একটি ধারণা তৈরি করত যে জেরুজালেমে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ বা উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে এতে শহরটিকে মুসলিম ও অন্যান্য গোষ্ঠীর, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইমপ্যাক্ট-সের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংস্থাটি যেসব বিষয়কে ইহুদিবিদ্বেষের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোর সবকটিই সৌদি পাঠ্যক্রমের নতুন সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কোরআন ও হাদিসের কিছু অংশ পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকেও ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি পরিচিত হাদিসের উল্লেখও রয়েছে। ওই বর্ণনায় বলা হয়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ওই বালক ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

ইমপ্যাক্ট-সে বলেছে, ২০২৫ সালের পাঠ্যবই থেকে এই উদাহরণ বাদ দেওয়ার ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে তারা মনে করছে। সংস্থাটির মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের সামনে এমন কোনো ধারণা থাকছে না যে ইসলামের বাইরে অন্য বিশ্বাস গ্রহণের কারণে কেউ অভিশাপ বা শাস্তির মুখোমুখি হবে।

এ ছাড়া অবিশ্বাস ও পাপের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা কোরআনের কিছু আয়াতের অংশ সংক্ষিপ্ত করার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছে ইমপ্যাক্ট-সে।

তবে সৌদি আরবের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সংস্থাটির কিছু সমালোচনাও রয়েছে। তাদের দাবি, দেশটির স্কুলগুলোতে এখনো শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে যে ইসলামই মানবজাতির স্বাভাবিক বা সহজাত ধর্ম।

সৌদি পাঠ্যক্রমে এসব পরিবর্তন দেশটির শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় সহনশীলতা, সংখ্যালঘুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি—এসব বিষয়কে সামনে রেখেই পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন অংশ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।