জুমার দিন নবিজির (সা.) জন্য বিশেষ দোয়া, শাফা’আতের সুসংবাদ হাদিসে
ইসলামের সর্বোত্তম দিন জুমা, মুসলিমদের জন্য নানাভাবে ফজিলতপূর্ণ। আজকের দিনে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে এক অমূল্য দোয়া আমাদের সামনে এসেছে, যা কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশ লাভের বিশেষ উপায় হিসেবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুসনাদে আহমদ থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে সাহাবি রুওয়াইফি ইবনে সাবিত আল আনসারী (রাঃ) বলেন,
“রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘যে ব্যক্তি আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং বলবে—اللَّهُمَّ أَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থ: হে আল্লাহ! তাঁকে কিয়ামতের দিন আপনার কাছে মর্যাদাপূর্ণ স্থান দান করুন—
আমার সুপারিশ তার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে।’”
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হাদিস নবিজির (সা.) ভালোবাসা, তাঁর মর্যাদা এবং মুসলমানদের আখিরাতে সফলতা পাওয়ার এক অদ্ভুত সুন্দর নির্দেশনা বহন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো দরুদের শেষে উক্ত দোয়া পাঠ করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ… اللَّهُمَّ أَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
রাসুল (সা.) বলেন,
“তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়।”
— (সুনানে নাসাঈ)
এমনকি হাদিসে এসেছে, নবিগণের দেহ মাটি গ্রাস করে না, সুতরাং নবিজির (সা.) কাছে প্রতিটি দরুদ পৌঁছানো হয় তাঁর জীবদ্দশার মতোই।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।”
— (সুরা আহযাব: ৫৬)
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুমার দিনের এ দোয়া ও দরুদ মুসলমানদের জন্য এক দুনিয়া ও আখিরাতের পথ খোলার মাধ্যম হতে পারে।
বিশেষ করে যারা কিয়ামতের দিন নবিজির (সা.) সান্নিধ্য ও সুপারিশ কামনা করেন, তারা এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করার অনুশীলন শুরু করতে পারেন।


