নবিজি (সা.) যে কারণে স্ত্রীকে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত বলেছেন
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—“দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।” (সহিহ মুসলিম: ১৪৬৭) এই হাদিসে শুধু নারীকে সম্মান জানানো হয়নি, বরং পুরুষের দায়িত্বও স্পষ্ট করা হয়েছে। মাওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খানের ব্যাখ্যায়, এই হাদিস একজন পুরুষের ব্যক্তিত্ব গঠনের এক অসাধারণ নীতি।
তিনি বলেন, “প্রত্যেক নারীই একজন সম্ভাবনার প্রতীক। স্বামী যদি আন্তরিকতা ও ধৈর্য নিয়ে স্ত্রীর গুণগুলো বিকশিত হতে সাহায্য করে, তবে সেই সম্পর্কই হয় পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যম।”
বিয়ের পরে দুই ভিন্ন মানুষের একসাথে জীবন শুরু হয়। তাদের মানসিকতা, রুচি, অভ্যাস—সবই আলাদা। এই পার্থক্যই তাদের পরস্পরের পরিপূরক করে তোলে, যদি থাকে সহনশীলতা ও সহানুভূতি।
মাওলানার ভাষায়,
“স্ত্রী কোনো রেডিমেড জামা নয়। সে এক জলজ্যান্ত মানুষ—যাকে গড়ে তুলতে হয় ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও ধৈর্য দিয়ে।”
অনেক পুরুষ চান, তাদের স্ত্রী হোক আদর্শ ও পূর্ণতা-ময়। কিন্তু সেটা একতরফাভাবে চাওয়া যায় না। বরং স্বামীকে হতে হয় সেই স্থপতি, যে স্ত্রীকে বুঝে, উৎসাহ দেয়, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। এর মাধ্যমে স্বামী নিজেও চরিত্রবান, পরিশীলিত এবং আত্মসচেতন হয়ে ওঠে।
স্ত্রীর ভিন্নতা ও দুর্বলতার মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়ার চোখ থাকলেই একজন পুরুষ হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল মানুষ। মাওলানা বলেন,
“স্ত্রীকে গড়ার চেষ্টাই পুরুষের আত্মগঠনের শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণ।”
এই বার্তাটি সমাজের সকল বিবাহিত পুরুষদের জন্য একটি আত্ম-অনুসন্ধানের ডাক। স্ত্রীর প্রতি সহানুভূতি ও ধৈর্যই যদি হয় ঈমানদার স্বামীর বৈশিষ্ট্য, তবে তা শুধু সংসার নয়, গড়ে তুলবে উন্নত চরিত্র ও শান্তিপূর্ণ সমাজও।


