চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি বিপর্যয়: দুই দিন কাস্টমস শাটডাউনে আটকা ১৪ হাজার কনটেইনার
দুই দিনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় ১৪,০০০ কনটেইনার আটকে রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে।
আজ (সোমবার) বন্দর সূত্র জানায়, শনি ও রোববার কাস্টমস শাটডাউনের ফলে তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ শিডিউলের মতো ছাড়তে পারেনি। এই জাহাজগুলোতে মোট ৩,৬৮০ TEU রপ্তানির পণ্য ছিল।
- ‘হং ডা জিন‑৬৮’ জাহাজে ১,৬৬৬ TEU
-
‘এক্সপ্রেস নিলওয়ালা’ জাহাজে ১,৪৬০ TEU
-
‘এএস সিসিলিয়া’ জাহাজে ৫৬৪ TEU
সব মিলিয়ে প্রায় ৩৭০০ TEU পণ্য নির্ধারিত সময়ে জাহাজে ওঠেনি।
বিজিএমইএ পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব বলেন:
“বন্দরেই আমার পণ্য আটকা। আমদানি-পণ্য খালাসও সম্ভব হয়নি। এখন ডেমারেজ খরচও পোহাতে হবে—মোটেই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পোশাক শিল্প।”
শাটডাউনে:
-
২৫৭০ TEU বাড়ছে বন্দরের অভ্যন্তর
-
মাত্র ৯১৩ TEU কনটেইনার খালাস (আগেই শুল্কায়ন করা হয়েছে)
আজ সকালে বন্দরে উপস্থিত TEU:
-
৪১,৫৩২ TEU, ২৪ ঘণ্টায়:
-
২২৫৩ TEU জাহাজ থেকে নেমেছে
-
৬৩ TEU এসেছে ঢাকার আইসিডি থেকে
-
৪৯৩ TEU এসেছে অফডক থেকে
-
জাহাজীকরণ হয়েছে ৩৪১২ TEU, ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ৭২ TEU।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, কাস্টমস কর্মচারীদের১১ জুন থেকে “তালা ঝুলিয়ে” কর্মস্থল বর্জন করা হয়েছে, ফলে শিল্কায়ন, আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
“শিডিউলে বার্থিং পায়নি তিনটি জাহাজ, যার ফলে বন্দরের আউটপুট মারাত্মকভাবে কমেছে।” —তিনি যোগ করেন।
রপ্তানিকারকদের দাবি, শাটডাউন কর্মসূচি বাতিল করেই এখনি নিরবচ্ছিন্ন শুল্কায়ন শুরু করতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জাহাজীকরণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, নয়তো বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ও রপ্তানি বিকল্পতা ক্ষতির মুখে পড়বে।


