পাঠ্যবই ছাপায় ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি: এনসিটিবি-দুদক টানাটানির আঁধারে

অপরাধ
পাঠ্যবই ছাপায় ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি: এনসিটিবি-দুদক টানাটানির আঁধারে
নিউজ ডেস্ক
১ জুলাই ২০২৫

২০২৫ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই ছাপায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। এনসিটিবি থেকে ছয় ধরনের তথ্য চেয়ে দাখিল করেছে দুর্নীতির বিস্তারিত প্রমাণের জন্য।

তদন্তের প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে, প্রিন্টার্সদের সঙ্গে চুক্তি সত্ত্বেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ১০ হাজার টন কাগজ আমদানির চুক্তি এবং শুল্ক মওকুফের সুযোগ নিয়ে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার অনিয়ম। এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের সঙ্গে এই চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শিক্ষাবর্ষে প্রয়োজনীয় ১ লাখ ৫ হাজার টন কাগজের মধ্যে ৯ হাজার টন কাগজ ও আর্টকার্ড চীনের ‘ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। যেখানে প্রত্যাশিত শুল্কের ২৮ শতাংশ মওকুফ করিয়ে সরকারি নিয়ম অমান্য করে কাগজের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়। এতে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থের লেনদেন হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এনসিটিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনও তদন্তের আওতার বাইরে থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এদিকে, প্রিন্টিং শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কারসাজিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত খরচে কাগজ কিনতে বাধ্য করা হয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ‘তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেছেন, ‘দুদকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দেয়া হয়েছে, তদন্তাধীন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যবইয়ের মান ও সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুর্নীতি নির্মূল অপরিহার্য। আর এ ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন কঠিন হবে।