জাপানের অনুদান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে ৫৮ কোটি টাকা
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জাপান সরকার। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘ব্যালট’ প্রকল্পে সাড়ে ৫৮ কোটি টাকারও বেশি অনুদান দিচ্ছে টোকিও।
আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এ-সংক্রান্ত একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ৬৯৫ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) অনুদান পাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ব্যালট প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহার করে ভোটার শিক্ষা, নারীর অংশগ্রহণ, এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা বৃদ্ধির কাজ করা হবে।
রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, “বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হোক—এটাই জাপানের প্রত্যাশা।”
ইউএনডিপির স্টেফান লিলার এই সহায়তাকে “গণতন্ত্র ও জনগণের আস্থার ভিত শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই চুক্তি শুধু নির্বাচনের নয়, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের প্রতীক।”
কী কাজে লাগবে এই অর্থ?
ইসির তথ্যমতে, এই অনুদানের মাধ্যমে—
-
দেশের ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে
-
নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি উৎসাহিত করা হবে
-
নির্বাচন পরিচালনায় ইসির দক্ষতা বাড়ানো হবে
-
পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্ষম করতে, জনগণের আস্থা অর্জনে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি গঠনে এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এই চুক্তি একদিকে জাপানের কূটনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে বাংলাদেশের একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের পথে বড় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


