‘নার্স-আয়া দুইজন মিলে টেনেহিঁচড়ে বাচ্চা বের করেছেন’

দেশজুড়ে
‘নার্স-আয়া দুইজন মিলে টেনেহিঁচড়ে বাচ্চা বের করেছেন’
নিউজ ডেস্ক
৫ জুলাই ২০২৫

জামালপুর শহরের পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকার নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে এক প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর নবজাতকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নার্স ও আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক।

নিহত নবজাতকের মা নওরিন জান্নাত মৌ (২১) সদর উপজেলার নারিকেলি এলাকার বাসিন্দা ও সোহেল আনসারীর স্ত্রী। পরিবারের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রসববেদনা উঠলে তাকে নগর মাতৃসদনে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ওই সময় হাসপাতালে কোনো গাইনি চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরদিন ভোরে নার্স শিরিন আক্তার ও আয়া ময়না বেগম যৌথভাবে স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। তবে, অযথা টানাহেঁচড়া ও অব্যবস্থাপনার কারণে নবজাতক মারা যায়, এমন অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নিহত শিশুর চাচা সৌরভ বলেন,

“বাচ্চার গলায় দাগ, নাক-মুখে রক্ত। এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু না। আমরা বিচার চাই।”

শিশুর বাবা সোহেল আনসারী বলেন,

“ডাক্তার না থাকায় নার্স আর আয়া জোর করে বাচ্চা বের করতে গিয়ে ওকে মেরে ফেলেছে। বাচ্চার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন আছে।”

ঘটনার পর নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের পরিচালক ও অন্যান্য স্টাফরা পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে নবজাতকের পরিবার। সাংবাদিকরা হাসপাতালে গেলে কেউ উপস্থিত ছিলেন না, এমনকি মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন,

“পরিস্থিতি বিবেচনায় নার্স ও আয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন,

“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”