প্রজন্ম চত্বর ভাঙা হলো রাতের আঁধারে: ইতিহাস মুছতে চায় কারা?
রাতের নীরবতায়, জনশূন্য শহরে, বুলডোজারের একেকটি আঘাতে ভেঙে পড়ল এক সময়ের গর্জে ওঠা ‘প্রজন্ম চত্বর’। শাহবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রতীকী স্থাপনাটি আর নেই—কেউ জানে না কেন, অথচ সবাই জানে কী ছিল এর মূল্য।
রোববার দুপুরে শাহবাগে গিয়ে দেখা যায়, প্রজন্ম চত্বরের স্থাপনাটি আংশিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় চা দোকানিরা জানান, গভীর রাতে কে বা কারা বুলডোজার নিয়ে এসে একপাশ থেকে ভাঙে এটি।
“চোখের সামনে দেখলাম, ওরা একটা সময়কে মাটির নিচে চাপা দিল,”—বললেন এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা।
শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, ভাঙার বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর অবগত করেছিল শুধুমাত্র যেন বিশৃঙ্খলা না হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—যে স্থাপনাটি ছিল ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের প্রতীক, সেটি ভাঙার আগে জনগণের কোনো মতামত নেওয়া হলো না কেন?
এটা কি শুধুই স্থাপত্য সরানো, না কি ইতিহাস থেকে একটি অধ্যায় মুছে ফেলার সূচনা?
প্রজন্ম চত্বর কেবল একটি কাঠামো ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের চূড়ান্ত এক মুখোমুখি দাঁড়ানোর স্মারক।
বিশ্লেষকরা বলছেন,
“যেসব জায়গায় ইতিহাস গর্জে ওঠে, সেসব জায়গা ক্ষমতাকে অস্বস্তিতে ফেলে। সেই অস্বস্তি থেকেই কি এই মুছে ফেলা?”
অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—“আগে চত্বর ভাঙল, এরপর কি স্মৃতিগুলোও মুছে দেওয়া হবে?”
কেউ লিখেছেন,
“প্রজন্ম চত্বর ভাঙা মানে শুধু ইট সিমেন্ট নয়, আমাদের প্রতিবাদী আত্মাটাকেও চাপা দেওয়া।”


